বায়ু দূষণ কাকে বলে? বায়ু দূষণের কারণ, ফলাফল ও প্রতিকার।
উত্তরঃ বায়ুর মধ্যে দূষিত ধোঁয়া, বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, অত্যধিক ধুলিকণা প্রভৃতির উপস্থিতিতে বায়ুর স্বাভাবিক উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়াকে বায়ুদূষণ বলে।
বায়ু দূষণ কাকে বলে?
বায়ুদূষণের কারণঃ
প্রধাণতঃ প্রাকৃতিক এবং মানুষের ক্রিয়াকলাপ বা অপ্রাকৃতিক কারণে বায়ুদূষণ ঘটে।
(ক) প্রাকৃতিক কারণঃ এর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত বিভিন্ন গ্যাস বাতাসের সঙ্গে মিশে যাওয়া; জলাভূমি থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস, মরু অঞ্চল থেকে আগত বিপুল পরমাণ ধূলিকণা, সমুদ্রের জলভাগ থেকে আসা লবণকণা এবং অরণ্যের দাবানল থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থের বাতাসের সঙ্গে মিশে যাওয়া প্রভৃতি।
(খ) অপ্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট কারণঃ এর মধ্যে রয়েছে কলকারখানা, খনিজ তেল শোধনাগার এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোয়াঁ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত গ্যাস, ছাই এবং পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয় রশ্মি – যা বায়ুমন্ডলে মিশে বায়ুকে দূষিত করে তোলে।
বায়ু দূষণের ফলাফল ও প্রভাবঃ
(ক) মানুষের উপর প্রভাবঃ বায়ুদূষনের ফলে মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়।শ্বাসনালী ও ফুসফুসের রোগ বাড়ে এবং বায়ুবাহিত রোগগুলির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, শ্বাসনালীর প্রদাহ, যক্ষা প্রভৃতি রোগে মানুষ সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
(খ) পশুপাখির উপর প্রভাবঃ বিভিন্ন প্রজাতির পশু ও পক্ষীর স্বাভাবিক জীবন বায়ুদূষনের ফলে বিপন্ন হয়। বায়ুদূষনের ফলে এদের খাদ্য দূষিত হয়, রোগজীবাণুর বৃদ্ধি ঘটে ফলে রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

(গ) উদ্ভিদের উপর প্রভাবঃ বায়ুদূষণের ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বাতাসে সালফার-ডাই-অক্সাইড বেশি হলে উদ্ভিদের পাতা শুকিয়ে যায় ফলে উদ্ভিদের সংখ্যা হ্রাস পায়।
(ঘ) পরিবেশের উপর প্রভাবঃ বায়ুদূষণ বাতাসে গ্রীণহাউস গ্যাসের মাত্রা বাড়ায়। এর ফলে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং সমগ্র জীব ও উদ্ভিদজগত তথা পরিবেশ বিপদাপন্ন হয়।
বায়ুদূষণের প্রতিকারঃ
প্রতিকারের জন্য যে উপায়গুলি অবলম্বন করা দরকার তার মধ্যে প্রধান হল-বনসৃজন, অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা, বিশুদ্ধ জ্বালানী যথা সালফার বিহীন কয়লা, সীসা বিহীন পেট্রোল ব্যবহার এবং তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সাহায্যে যানবাহন চালানো বাধ্যতামূলক করা, বায়ুদূষণের উৎসস্থানগুলিতে বায়ুপরিশোধক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কৃষিতে জৈবকীটনাশক বেশি করে ব্যবহার ইত্যাদি।
বায়ুদূষণ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগগ্রহণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রতিকারের অন্যতম উপায় হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এককথায় - বায়ুর উপাদানসমুহের পরিবর্তন যখন উদ্ভিদ ও জীবকূলের ক্ষতির কারণ হয় তখন তাকে বায়ু দূষণ বলে।